মেথি খাবেন যে ১২ কারণে

0
556
মেথি

মেথির স্বাদ তিতা ধরনের। এতে রয়েছে রক্তের চিনির মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি খেলে শরীরের রোগ-জীবাণু মরে। মেথি এক ধরনের ঔষধি গাছ। এতে একবারই ফুল হয় এবং ফল ধরে। মেথি হিসেবে আমরা যে জিনিসটা চিনি সেটা আসলে ফলের বীজ। এই মেথি মশলা হিসেবে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে এটি পাঁচ ফোঁড়নের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত। আসুন জেনে নেই মেথি ব্যবহারের মেথির উপকারী দিকগুলা:

স্তনের আকার বাড়াতে

যে মহিলাদের স্তনের বিকাশ হয়নি, তাঁরা তেলে মেথি ফুটিয়ে মালিশ করলে ভালো ফল পাবেন। স্তনের টিস্যু বিকাশে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেথিতে থাকে ফাইটো-এস্ট্রোজেন। যার কাজ হল প্রোল্যাক্টিন বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। এই প্রোল্যাক্টিনের কারণে স্তনের আকার বড় হয়। নিয়মিত মেথি খেলে মেয়েদের পিরিয়ডস নিয়ে সমস্যাও দূর হয়।

ওজন কমাতে
প্রাকৃতিক ফাইবার থেকে জন্ম নেয় মেথি। এগুলো চিবিয়ে গিলে খাওয়া যায় এবং পাকস্থলীর ফাঁকা স্থান এরা পূর্ণ করে। এতে ওজন কমানোর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। খুব বেশি নয়, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সামান্য মেথি চিবিয়ে খান। এতেই স্পষ্ট বুঝবেন উপকার পাচ্ছেন। স্থূলতা কমাতে প্রতিদিন সকালে মেথি ভেজানো পানি পান করতে পারেন। দুটি আলাদা গ্লাসে পানি নিয়ে প্রতিটিতে এক টেবিল চামচ মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। এই পানি পেটের গ্যাসের সমস্যা দূর করে।
জ্বর ও খুসখুসে গলার জন্য
লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে এক টেবিল চামচ মেথি চিবিয়ে খেলে জ্বর থেকে মুক্তি মেলে। আবার এতে রয়েছে মুসিলেজ নামের এক ধরনের যৌগ, যা গলার খুসখুসে ভাব দূর করে। নারীদের স্বাস্থ্যগত বিষয়েও এর উপকারিতা রয়েছে। মেথিতে রয়েছে সাইটো-ইস্ট্রোজেন, যা নারীদেহে প্রোলাকটিন নামের হরমোনের মাত্রার বৃদ্ধি ঘটায়। এই হরমোন নারীদেহকে সুগঠিত করে। এ ছাড়া ঋতুকালীন বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেয় মেথি।
চুল পড়া রোধে
স্বাস্থ্যহীন চুলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেয় মেথি। চুল পড়া রোধে বহুকাল ধরে মেথির কদর চলে আসছে। এটি খেতেও পারেন, বা বেটে মাথায় দিতে পারেন। বিস্ময়কর উপকারিতা মিলবে। মেথি বাটা সারা রাত নারিকেল তেলের মধ্যে চুবিয়ে রেখে সকালে চুলে মাখুন। ঘণ্টাখানেক পর গোসল করে ফেলুন। বা নারকেলতেলের সঙ্গে মেথিদানা ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে, তা ঠান্ডা করে, চুলের গোড়ায় ভালো করে মালিশ করুন। কিছুদিনের মধ্যেই চুল পড়া বন্ধ হবে।
হজমে সহায়ক
বুকে বা পেটের ওপরের দিকে এসিডের প্রদাহ থেকে মুক্তি দেয় মেথি। সেই সঙ্গে বদহজমের সমস্যায় ওষুধের মতো কাজ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এ সবই দেহের বিষাক্ত উপাদানগুলোকে বের করে দেয়। উপকার পেতে স্রেফ পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে খেলেই হবে। পানিটাও খেতে ভুলবেন না।
 রক্তে গ্লুকোজ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
দেহে গ্লুকোজের মাত্রা দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে মেথি। এর অ্যামাইনো এসিড অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন ক্ষরণে সহায়তা করে। এতে দেহে গ্লুকোজের পরিমাণ হ্রাস পায়। ফলে ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
উজ্জ্বল ত্বকের জন্য
রূপচর্চায়ও মেথিকে শীর্ষে রাখা যায়। সারা দেহে বয়ে বেড়ানো নানা ক্ষতিকর উপাদান চেহারায় বলিরেখা ফেলে দেয়। এ ছাড়া চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল সৃষ্টিতেও ওস্তাদ এগুলো। মেথি দেহের সব অপ্রয়োজনীয় উপাদান ঝেঁটিয়ে বিদায় করে। মেথিদানা আমাদের শরীরের ফ্রি র‌্যাডিক্যালগুলোকে ধ্বংস করে। এই ফ্রি র‌্যাডিক্যালের কারণেই মুখে কালো দাগ হয়। বলিরেখা দেখা যায়। মেথি সেই ফ্রি র‌্যাডিক্যালকে নষ্ট করে দেয় বলেই ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
খুশকি দূর করতে
বিশেষ ধরনের চুলে প্রচুর খুশকির উত্পাত ঘটে। মাথার শুষ্ক ও মৃত ত্বক থেকে খুশকি হয়। গোটা রাত পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে তা বেটে পেস্ট তৈরি করুন। এতে ইচ্ছে হলে দই মেশাতে পারেন। এরপর এই মিশ্রণ মাথার ত্বকে লাগান। মিনিট তিরিশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি চলে যাবে।

আরও পড়ুনঃ   ধনে পাতার জাদুকরী গুণ

সন্তান জন্মদানকে কিছুটা সহজ করতে
জরায়ুর সংকোচন ও প্রসারণের যন্ত্রণা কমাতে মেথির অবদানের কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অতিরিক্ত খাওয়া হলে গর্ভপাত বা অপরিণত শিশুর জন্মদানের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
–টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার

গর্ভাবস্থায় মেথি

পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মেথিদানা গর্ভধারণ সংক্রান্ত নানা জটিলতা দূর করে। যে মেয়েরা গর্ভযন্ত্রণার ভয় পান, তাঁদের প্রসবের সময়ের কিছু আগে থেকে রোজ সামান্য পরিমাণ মেথিদানা খাওয়া উচিত। এতে গর্ভযন্ত্রণা শুধু কমই হয় না, একইসঙ্গে প্রসবও ঝঞ্ঝাটহীন হয়। তবে, একটা কথা মাথায় রাখবেন। গর্ভাবস্থায় খুব বেশি বেশি মেথি কখনোই খাবেন না। তাতে মিসক্যারেজ বা অকাল প্রসব হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ঋতুস্রাবের সময়ে
ঋতুস্রাবের সময়ে বহু মহিলাই পেট ব্যথায় কষ্ট পান। অনেকেই পেন কিলার খান ব্যথা কমাতে। তাতে বরং ক্ষতিই হয়। অথচ অনেকেরই অজানা, এই সমস্যার সমাধান রয়েছে রান্নাঘরেই। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, এক মুঠো মেথিই এই ব্যথায় ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যাচ্ছে, মেনস্ট্রুয়াল পেইন-এর জন্য মেথি খুব উপকারী। কী ভাবে খাবেন মেথি? রান্না করা তরকারি, তড়কা, পরোটা ইত্যাদির মধ্যে মেথি মিশিয়ে খাওয়াই যায়। কিন্তু সব থেকে ভাল ফল পেতে গেলে মেথির চা খান।

একটি পাত্রে পানি নিন। তাতে মেথি মেশান। তার পরে ৫ মিনিট ধরে সেই পানি ফোটান। রং হলুদ হতে থাকলে আর ফোটানোর দরকার নেই। এ বারে মেথির দানা ছেঁকে নিন। ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার দু’দিন আগে থেকে এই পানি নিয়মিত খেতে শুরু করুন। ঋতুস্রাবের সময়ে মহিলাদের মেজাজেরও পরিবর্তন হতে থাকে। মেথি-চা খেলে মেজাজও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

মেথি ব্যবহারে করে ওজন কমানোর উপায়

ভাজা মেথিবীজ
এটি হচ্ছে ওজন কমানোর জন্য চমৎকার একটি উপায় যার জন্য অন্য কোন ঔষধ খেতে হবে না। কিছু মেথিবীজ একটি প্যানে নিয়ে কম আঁচে ভেজে নিয়ে সেটাকে গ্রাইন্ডারে গুড়ো করে পাউডার করতে হবে। তারপর কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হবে এবং সেই সাথে এই মেথিবীজের পাউডার চাইলে তরকারিতেও ব্যবহার করতে পারেন ওজন কমানোর জন্য।

আরও পড়ুনঃ   তেঁতুলের কিছু অজানা উপকারিতা

মেথিবীজ পানিতে ভিজিয়ে
মেথিবীজ ভেজানো পানি খেলে তা ওজন কমাতে সহায়ক হয়। কারণ এটি খেলে তা খাবারের পরিতৃপ্তি এনে দেয়। যার ফলে ক্ষুধা কম অনুভূত হয় এবং বেশি খাওয়ার ইচ্ছেটা কমে যায়। এর ফলে খুব দ্রুত ওজন কমে। আরো এক ভাবে খেতে পারেন। ১ কাপ মেথিবীজ পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর পানি ছেঁকে নিয়ে ভেজানো সেই মেথিবীজ গুলো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চিবিয়ে খেতে হবে।

অঙ্কুরিত মেথিবীজ
অঙ্কুরিত মেথিবীজে উচ্চ মাত্রার ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন এ, বি, সি এবং ই, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, পটাসিয়াম, অ্যামাইনো এসিড, হজম সহায়ক খনিজ পদার্থ এবং আরো অনেক কিছু রয়েছে। একটি বাটিতে মেথিবীজ নিয়ে তা একটি পাতলা কাপড় পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে ঢেকে রেখে তার উপর ভারি কিছু দিয়ে ৩ রাত এভাবে রেখে দিতে হবে।তারপর দেখা যাবে মেথিবীজ অঙ্কুরিত হয়েছে এবং সেই বীজগুলো খেতে পারেন।

মেথিবীজের চা
চমৎকার মেথিবীজের এই চা দুইটি কাজে সাহায্য করে,ওজন কমাতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া হজমের ক্ষেত্রে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেরও তা ভাল কাজ করে।সামান্য পানি দিয়ে কিছু মেথিবীজ পেস্ট করতে হবে।একটি পাত্রে পানি ফুটিয়ে নিয়ে তাতে সেই পেস্ট দিতে হবে। চাইলে তাতে কিছু ভেষজ মশলা দেয়া যায় যেমন আদা এবং দারুচিনি। তারপর পাত্র ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন এই চা খালি পেটে খেতে হবে।

মেথিবীজ-মধু চা
দেহের আকর্ষণীয় আকৃতি পেতে ও ওজন কমাতে মধুমিশ্রিত মেথিবীজের চা চমৎকার কাজ করে। মেথিবীজ গ্রাইন্ডারে গুড়ো করে নিতে হবে। সেই পাউডার পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে এবং এভাবে ৩ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তারপর সেই পানিটা ছেকে নিয়ে তাতে লেবুর রস ও মধু যোগ করতে হবে। ভাল ফলাফল পেতে এই চা টি প্রতিদিন সকালে খেতে হবে।
এই পাঁচটি উপায়ই হচ্ছে মেথিবীজ ব্যবহার করে কার্যকর ভাবে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া। তাহলে আর দেরি কেন,শুরু করে দিন আজ থেকেই আর পৌঁছে যান আপনার লক্ষ্যমাত্রার ওজনে।

আরও পড়ুনঃ   সকালে খালি পেটে এক গ্লাস মেথির পানি

রক্তে চিনি কমাতে মেথি কার্যকরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 + two =