মেথি তারুণ্য দীর্ঘস্থায়ী ও যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে

0
904
মেথি

রান্নায় মেথি সাধারণত মসলা হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই মেথি যে শুধুমাত্র মশলা নয় তা হয়তো অনেকেরই অজানা। এর ঔষুধিগুণ এত বেশি যে, তা বলে শেষ করা যাবে না। আসুন জেনে নেই মেথির কিছু উপকারিতার কথা।
মেথি স্বাদে একটু তেতো। এতে রয়েছে রক্তে চিনির মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি খেলে কৃমি নাশ হয়। রক্তে চিনির মাত্রা কমে। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা কমে যায়।
বার্ধক্যকে দূরে ঠেলে দিয়ে তারুণ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে মেথি। গবেষণায় দেখা গেছে, যে ডায়াবেটিক রোগীরা নিয়মিত মেথি খান, তাঁদের ডায়াবেটিসজনিত অসুখগুলো কম হয় এবং স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মেথি শ্রেষ্ঠ পথ্য। যাদের ডায়াবেটিস নেই মেথি তাদের জন্যও জরুরি। মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য কালো জিরার মতো মেথি পিষে খাওয়াটাও যথেষ্ট উপকারী। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মেথি ভেজে পিষলে পুষ্টিগুন নষ্ট হয়ে যায়। রৌদ্রে শুকিয়ে ভাজলে খেতে মচমচে লাগবে।
মেথি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, শরীরকে রাখে সতেজ। রক্তের উপাদানগুলোকে করে কর্মক্ষম। ফলে মানুষের কর্মোদ্দীপনাও বৃদ্ধি পায়। মৌসুমি রোগগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
৩০টি দেশের ২৫ হাজার পুরুষের উপর গবেষণায় করে দেখা গেছে, যেসব পুরুষ তাদের যৌনশক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তারা মেথির রস দিনে দু’বার পরিমাণ মতো সেবন করলে আশ্চর্য সুফল পেতে পারেন। এই পরিমিত সেবনে তাদের দাম্পত্য জীবন হয়ে উঠবে আরও সুখময়।
হতাশা বা অবসাদ, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ও অ্যালকোহল পানে অসুস্থতা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি বহু অসুখ ও শারীরিক সমস্যার জন্য মেথির রস এক মহৌষধ! মেথির রসে ‘সাপোনিস’ বা ‘ডাইওসজেনিন’ নামে এক ধরনের যৌগ পদার্থ আছে, যা মানবদেহের হরমোন স্তর বা এর পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, অন্তত ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত দিনে দু’বার করে এর রস নিয়মিত পান না করলে তেমন উপকারিতা পাওয়া যাবে না। শুধু তাই নয়, আপনি যদি মেথি সরাসরি খেয়ে ফেলেন তবে এটি আপনার ডায়েটে সহায়তা করবে।
মেথি যদি আপনি আপনার চুলে প্রয়োগ করেন তাহলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করবে। যেমন, চুল পড়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। মেথির দানাকে কিছুটা গরম করে সারারাত নারিকেল তেলে ভিজিয়ে রেখে চুলে মেসেজ করলে বেশ কার্যকরী ভূমিকা পাওয়া যাবে। এভাবে নিয়মিত দিলে চুল পড়া রোধ করে, চুল ঘন হয়। এছাড়া এটি চুলের খুসকি দূর করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং চুলের বিভিন্ন পুষ্টির যোগান দেয়।
এছাড়াও, ত্বক পরিষ্কার করতে, বিভিন্ন ক্ষত এবং ব্যথা সারাতেও এটি অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া আপনার প্রতিদিনের ফেসপ্যাকে মেথি গাছের নির্যাস ব্যবহার করলে মুখের ব্রণ, কালো দাগ এবং ফুসকুড়ি নিরাময় হয়।

আরও পড়ুনঃ   সকালে খালি পেটে এক গ্লাস মেথির পানি

আরও কিছু গুণ জেনে নিন

১. সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা মেথি ভেজানো জল খেলে রক্তে থাকা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। যাঁদের সুগার রয়েছে, তাঁদের জন্য মেথি ভেজানো জল খুব ভাল। এতে রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যায়। ডায়বিটিক রোগীদের জন্য মেথি শ্রেষ্ঠ পথ্য।

২. এছাড়া রোজ সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে কৃমি ও শরীরের রোগ-জীবাণু মরে যায়।

৩. খাবারে মেথির উপস্থিতি স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।।

৪. গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের জন্য মেথি মোক্ষম ওষুধ।

৫. মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য মেথি পিষে খেলে উপকার মেলে। সাধারণত, মেথি তেলে ভাজলে এর গুণাগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই কড়া রোদে মেথি শুকিয়ে তার ভর্তা খাওয়া যেতে পারে।

৬. মাসিকের ব্যথায় কাঁচা মেথি চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

শুধু রান্না বা খাবারেই নয়, রূপচর্চাতেও মেথির ব্যবহার ব্যাপক।

১, চুলের সমস্যা নিয়ে নারী-পুরুষ উভয়েই নাজেহাল। চুল পড়া বন্ধ করতে নারকেল তেলের বোতলে বেশ কয়েকটি মেথি রেখে দিন। মেথি ভেজানো এই তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত হয়।

২. নরম ও সুন্দর চুলের অধিকারী হতে চান? তাহলে মেথি গুঁড়ো টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। সপ্তাহে ২ বার করলেই এর ফল মিলবে।

৩. মেথি ভিজিয়ে তা বেটে মেহেন্দি ও ডিমের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। আধ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।এতে নতুন করে চুল গজাবে। চুল পড়াও কমবে।

৪. ত্বকে ঘা, ফোড়া, চুলকানি, দাদের জন্য মেথির জুড়ি নেই।

৫. মেথি-বাটা নিয়মিত ব্যবহার করলে সহজে মেচেতা ছড়িয়ে পড়ে না। ধীরে ধীরে তা কমেও যায়।

বিস্ময়কর ক্ষমতা মেথির!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

11 + twelve =