যে ১৯ টি খাবার ভুলেও ফ্রিজে সংরক্ষণ করবেন না

0
খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ

খাবার দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ ও ভালো রাখার জন্য ফ্রিজের জুড়ি মেলা ভার। এই আধুনিক জীবনে ফ্রিজের ব্যবহার কত গুরুত্বপূর্ণ তা হয়তো নতুন করে বলতে হবে না। আমাদের এই নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা খাবার তৈরির অনেক উপাদান এবং অতিরিক্ত খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ করি। কিন্তু আমরা বেশীরভাগ মানুষেই জানি না ফ্রিজে কোন ধরণের খাবার বেশী ভালো থাকবে কিংবা কোন খাবার ফ্রিজে রাখলে পুষ্টিগুণ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় অথবা ফ্রিজে রাখা যায় না কোন খাবার। এমন অনেক খাবার আছে যা ফ্রিজে রাখার উপযুক্ত নয় এবং ফ্রিজে রাখলে খাবারগুলো নষ্ট হয় বা পুষ্টিগুণ ও স্বাদ কমে যায়, যা ফ্রিজে রাখা অন্য খাবারের উপরও প্রভাব ফেলে। আজ আমরা এমন কিছু খাবারের কথা জানবো যেগুলো ফ্রিজে রাখা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

চলুন দেখে নেই ফ্রিজে যে খাবার রাখা উচিত নয়

হট সস
ঝাল বা হট যেকোনো সস ফ্রিজে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, এটি তিন বছর পর্যন্ত রুমের তাপমাত্রায় রাখলে ভালো থাকবে। নষ্ট হবে না এবং জীবাণুও আক্রমণ করবে না।

পাউরুটি
ফ্রিজে পাউরুটি রাখলে কম তাপমাত্রার জন্যে অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় যা পরে আর খাওয়া যায় না। তাই এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বাইরেই রাখুন। দীর্ঘদিন পাউরুটি ভাল রাখতে চাইলে একটি পরিষ্কার কাপড় বা কাগজ দিয়ে পাউরুটি পেঁচিয়ে রাখুন।

কলা
অনেকে কলা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য ফ্রিজে রাখে। কিন্তু ফ্রিজে রাখার কারণে কলার খোসা দ্রুত বাদামী হয়ে যায় এবং দ্রুত পেকে যায়।

ডিম
বিশেষজ্ঞদের মতে ফ্রিজে ডিম রাখা মোটেও ঠিক নয়। কারণ হলো, ফ্রিজে রাখলে ডিমের সাদা অংশের কার্যকারিতা কমে যায়। এছাড়া ফ্রিজে রাখার কারণে ডিমে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।

কয়েক ধরণের ফল
তরমুজ, লেবু, মালটা, আপেল, কলা, কমলা ইত্যাদি ধরণের ফলগুলো ফ্রিজে রাখলে ফলের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ দুটোই কমে যায়।

আরও পড়ুনঃ   অসুখ থেকে দূরে থাকতে বাড়িতেই তৈরি করুন এই টয়লেট ক্লিনার

আলু
আলুর মধ্যে স্টার্চ থাকে। ফ্রিজে রাখলে স্টার্চ সুগারে পরিণত হয়। তাই আলুকে তাজা রাখতে ফ্রিজে না রেখে, কোনো অন্ধকার ও ঠাণ্ডা স্থানে রাখা উচিৎ। ফ্রিজে আলু রাখলে আলুর আসল স্বাদ একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজের বাইরে কোথাও রাখুন একটি প্যাকেটে। তবে প্লাস্টিকের ব্যাগ নয়, একটি কাগজের ব্যাগে আলু পেঁচিয়ে রাখলে তাজা ভাব থাকবে। তিন সপ্তাহ পর্যন্ত এভাবে আলু স্টোর করে রাখতে পারেন।

টমেটো
ফ্রিজের শীতল বাতাস টমেটোর স্বাদ কমিয়ে দেয়। তাই স্বাদ অটুট রাখতে টমেটো ফ্রিজে রাখা থেকে দূরে রাখা উচিৎ।ফ্রিজে টমেটো রেখে দিলে স্বাদ নষ্ট হয়। এছাড়াও টমেটো ফ্রিজে রাখলে টমেটোর ভেতরটা একটু সেদ্ধ ধরণের হয়ে যায়। তাই টমেটো বাইরেই রাখুন। প্লাস্টিকের ব্যাগে ভুলেও টমেটো রাখবেন না। এতে টমেটো পচে যাবে। কাগজের ব্যাগে রুমের তাপমাত্রায় টমেটো রাখুন। তিন দিন পর্যন্ত টমেটো ভালো থাকবে।

পেঁয়াজ
অনেকেই পেঁয়াজ কেটে ফ্রিজে রেখে দেন অথবা প্যাকেট ধরেই পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখেন। দুটোর কোনটিই স্বাস্থ্যকর নয়। বরং পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখলেই দ্রুত পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং পিয়াজের গন্ধে ফ্রিজের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।। সুতরাং পেঁয়াজ ফ্রিজে না রেখে এমন একটি ব্যাগে রাখবেন, যাতে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তবে কখনোই আলুর সঙ্গে পেঁয়াজ রাখবেন না। এতে পেঁয়াজ ও আলু দুটোই পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

রসুন

ফ্রিজে রসুনে কালচে দাগ পড়ে যায়। এগুলো বাইরেই রাখুন। তাছাড়া ফ্রিজে রাখলে রসুন খুব তাড়াতাড়ি অঙ্কুরিত হয়ে যায়। সেই সঙ্গে রসুন অপেক্ষাকৃত নরম হয়ে যায়। সুতরাং রসুন ফ্রিজে রাখার কোনো দরকার নেই। কারণ, দুই মাস পর্যন্ত রুমের তাপমাত্রায় রসুন ভালো থাকে। তাই ঝুড়ির মধ্যে রসুন স্টোর করতে পারেন। পচে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

তেল
ফ্রিজে তেল রাখলে জমাট বেঁধে যায়। ভুলেও তেল ধরণের কিছু ফ্রিজে রখা উচিত নয়। তাই কখনই ফ্রিজে তেল রাখা উচিত নয়। এতে তেলের ঘনত্ব বেড়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ   টুথপেস্ট দিয়ে করা ১০ দুর্দান্ত কাজ

কেচাপ ও সয়াসস
আমরা অনেকেই কেচাপ ও সয়াসস ধরণের জিনিসগুলো ফ্রিজেই রাখি। কিন্তু এগুলো বাইরে রাখলেও কোনো ক্ষতি নেই বরং ফ্রিজে রাখলে স্বাদ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।

আচার
অনেকেই ভাবেন আচার ফ্রিজে রেখে দিলে অনেকদিন রাখা যাবে। কিন্তু আচার ফ্রিজে রাখলেই ছত্রাক পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় ও স্বাদও কমে যায়। ভালো হয় বাইরেই রাখলে এবং নিয়মিত রোদে দিন তাহলে ছত্রাক পড়বেনা।

কফি
ফ্রিজে রাখা সমস্ত জিনিসের ফ্লেভার নিয়ে নেওয়ায় কফির স্বাদ খারাপ হয়ে যায়। আপনি যদি কফির প্যাকেট ফ্রিজে রেখে থাকেন তাহলে অনেক বড় ভুল করছেন। এতে করে কফির স্বাদ একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে ও কফিও জমাট বেঁধে যাবে।

মধু
মধু ফ্রিজে রেখে দিলে নিচের দিকে জমাট বাধাঁ চিনির মতো হয়ে যায়। তাই মধু বাইরেই ঠাণ্ডা কোনো স্থানে রাখুন, নষ্ট হবে না। তাছাড়া মধু ফ্রিজের মধ্যে রাখলে এর সুগার ঠাণ্ডা হয়ে কেলাসিত হয়ে যায়। এতে মধুর স্বাদ কমে যায়। এটি এমন একটি বোতলে রাখবেন, যার মুখ অনেক শক্ত থাকবে, যেন ভেতরে বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। তাহলেই সাধারণ তাপমাত্রায় মধু ভালো থাকবে।

মসলা
মসলার স্বাদ অটুট রাখতে চান? তাহলে মসলা ভুলেও ফ্রিজে রাখবেন না। যদি বাটা মসলা অনেকটা সময় রাখতে চান তাহলেই রাখুন।

শীতকালীন সবজি
শীতকালীন ফল জাতীয় যে সব সবজি তা ফ্রিজে রাখলে স্বাদ ও পুষ্টিগুন নষ্ট হয়। সবচেয়ে ভালো হয় তাজা থাকতেই খেয়ে শেষ করা।

বাদাম ও খেজুর
বাদাম ও খেজুর বা শুকনো ফল ফ্রিজে রাখলে আরও বেশি শুকিয়ে একেবারেই শক্ত হয়ে যায় যা খাওয়ার উপযুক্ত থাকে না। তাই এগুলো বাইরে রাখাই ভালো।

জ্যাম ও জেলি
দোকান থেকে কেনা জ্যাম জেলিতে সাধারণত অনেক প্রিজারভেটিভ থাকে, যার কারণে এগুলো ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়। যদি ঘরে বানানো জ্যাম বা জেলি হয় তাহলে ফ্রিজে রাখুন।

আরও পড়ুনঃ   ফ্রিজে গরুর মাংস কতদিন রাখা যায়?

বাটার/মাখন
সাধারণ বাটারই হোক আর পিনাট বাটারই হোক না কেন ফ্রিজে রাখতে যাবেন না। স্বাদ একেবারেই নষ্ট হয়ে যাবে। মাখন পাস্তুরাইজড দুধ দিয়ে তৈরি হওয়ার জন্য সহজে নষ্ট হয় না। বরং মাখন ফ্রিজে রাখলে এর জলীয় অংশ চলে যায়।

সুত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া ও বিডি হেলথ

আরও পড়ুনঃ ফ্রিজ পরিষ্কার ও দুর্গন্ধ মুক্ত রাখার ২০ টিপস জেনে নিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 − six =