রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার দারুণ কিছু কৌশল!

0
159
দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া

সকাল থেকে শুরু করে দিনের একদম শেষ পর্যন্ত প্রতিটা মানুষের একসাথে অনেকগুলো কাজের পরিকল্পনা থাকে। কারোর হয়তো স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস রয়েছে, কারোর রয়েছে অফিসের কাজ। আবার অনেকের জন্য রয়েছে নিজের বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাবার তাড়া। সকালে উঠে বিভিন্ন কাজের প্রেশারে অনেক ব্যস্ততার মাঝে থাকার প্রয়োজন হয় বলেই, রাতের ঘুমটা হওয়া চাই একদম ‘পারফেক্ট।’ 

কিন্তু বেশীরভাগ সময়ে দেখা যায়, বিছানায় শুয়ে পড়ার পরেও অনেকক্ষণ যাবত ঘুম একেবারেই আসে না। সময় গড়াতে থাকে, রাত বাড়তে থাকে। তবুও যেন ঘুমের দেখা নেই। এমন সমস্যা থেকে কীভাবে পরিত্রান পাবেন? জেনে নিন দারুণ ও কার্যকরি কিছু কৌশল।

ঘরের তাপমাত্রা সঠিকভাবে নির্ধারন করা

ঘরে এসির তাপমাত্রা এমনভাবে নির্ধারন করতে হবে, যেন সেটা শরীরের সাথে মানিয়ে নিতে পারে। খুব বেশী ঠাণ্ডা অথবা গরম বোধ হলে ঘুম আসতে দেরী হবে এবং শরীরে অস্বস্তি দেখা দেবে।

ঘুমানোর জন্যে খাওয়া

রাতের খাবার খাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, খাদ্য তালিকায় যেন ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি-৬ যুক্ত খাদ্য উপাদান থাকে। এই সকল খাদ্য ইনসমনিয়ার সমস্যা কমাতে সরাসরিভাবে সংযুক্ত। যার ফলে এই জাতীয় খাবার রাতে গ্রহণ করলে ঘুম দ্রুত আসার ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকে।

সকল দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে দেওয়া 

সারাদিনের কাজের সকল দুশ্চিন্তা নিয়ে বিছানায় শোয়ার পরে স্বাভাবিকভাবেই ঘুম আসবে না। তাই ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বেই মাথা থেকে সকল ধরণের দুশ্চিন্তা, মানসিক অস্থিরতাকে বাদ দিয়ে দিতে হবে। দুশ্চিন্তা দূর করার ক্ষেত্রে বই পড়া খুব ভালো কাজে দেয়। তাই, ঘুমানোর আগে পছন্দের কোন একটা বই পড়া যেতে পারে।

মেডিটেশন করা

শরীর এবং মনের মাঝে সম্পূর্ণ ব্যালান্স ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই মেডিটেশন খুব ভালো কাজে দেয়। প্রত্যহ মেডিটেশনের মাধ্যমে শরীর ও মনের মাঝে প্রশান্তি ভাব কাজ করে। যার ফলে রাতে ঘুমানোর সময় কোন মানসিক দুশ্চিন্তাভাব দেখা দেয় না। এতে করে, খুব সহজেই ঘুমিয়ে পড়া যায়।

চিনি ও শস্য জাতীয় খাবার খাওয়া বাদ দেওয়া 

বলা হয়ে থাকে, ঘুমাতে যাবার আগে চিনি ও শস্য জাতীয় কোন খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করা একেবারেই উচিৎ নয়। কারণ এতে করে শেষ রাতের দিকে প্রবল ক্ষুদাভাব তৈরি হয়। তাই চিনি অথবা শস্য জাতীয় খাবার খাওয়ার পরিবর্তে প্রোটিন এবং কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট জাতীয় হালকা ধরণের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

ইলেকট্রনিক পণ্য বিছানা থেকে দূরে রাখা 

বলাই বাহুল্য যে, ঘুমাতে যাওয়ার পর বিছানায় শুয়ে মোবাইলে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে কোনোভাবেই ঘুম আসবে না। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, চোখ ঘুম থাকা স্বত্বেও মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করার ফলে ঘুম নষ্ট হয়ে যায়। তাই, ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাবার পূর্বেই সকল ধরণের ইলেকট্রনিক পণ্য বন্ধ করে অথবা অন্য স্থানে রেখে এরপর বিছানায় যেতে হবে।

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করা

ছুটির দিন হোক অথবা অন্য সাধারণ দিন হোক- সবসময় চেষ্টা করতে হবে, একদম সময় মতো ঘুমাতে যাওয়ার জন্য। তাতে শরীরে অভ্যস্ততা তৈরি হয় এবং প্রতিদিন একই সময়ের মাঝে চোখে ঘুম চলে আসে।

দুপুর বারোটার পর ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দেওয়া

নাস্তার টেবিলে অথবা সকালে অফিসে ঢুকে গরম এক-দুই কাপ চা বা কফি পান করে ফেললে কোন সমস্যা নেই। তবে দুপুর বারোটার পর থেকে ক্যাফেইন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিরতি নেওয়া উত্তম। কারণ, ক্যাফেইন গ্রহণের পর প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ক্যাফেইনের প্রভাব শরীরে রয়ে যায়। যে কারণে দুপুর ১২ টার আগে যাবতীয় চা বা কফি পান করে নিলে শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব আর থাকবে না। এতে রাত ঘুম আসার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেবে না।

সকালে শরীরচর্চা করা

অবশ্যই শরীরচর্চা করা সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে অনেকেই রাতের বেলা বা সন্ধ্যার দিকে শরীরচর্চা করেন। যেটা খুবই ভুল। শরীরচর্চা করার জন্য উপযুক্ত সময় হলো সকালবেলা। এতে করে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

ঘুমানোর আগে ডায়েরি লেখা

সারাদিন শেষে একদম ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ডায়েরি লেখার অভ্যাস মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে খুব ভালো ভূমিকা রাখে। যার ফলে রাতে দ্রুত ঘুম চলে আসার ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকে। সারাদিনে ঘটে যাওয়া সকল সকল ঘটনা, মনের অব্যক্ত কথা নিজের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে লেখার মাধ্যমে অনেক বেশী মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।

মেলাটোনিন যুক্ত খাবার গ্রহণ করা

যে সকল খাবারে মেলাটোনিন রয়েছে, সেই সকল খাবার বেশী করে খাবার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ কিছু ফল ও কার্বহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যে মেলাটোনিন পাওয়া যায়। মেলাটোনিনযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে মেলাটোনিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। যার ফলে দ্রুত ঘুমানোর ক্ষেত্রে সহজ হয়। তাই চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন মেলাটোনিনযুক্ত খাবার খাদ্য তালিকার মাঝে রাখার জন্য।

সূত্রTapoos

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা

আরও পড়ুনঃ   ঘুমের বারোটা বাজায় যে খাবার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − seven =