সকালের নাস্তায় কেন খাবেন কাঠবাদাম?

0
কাঠবাদাম

ছোটবেলা থেকেই এইটি প্রবাদ বাক্য মুখস্ত করে বড় হয়েছি আমরা সকলে। ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।‘ কথাটা তখন শুধুমাত্র জানার জন্যে জেনেছি অথবা পড়ার জন্যেই পড়েছি আমরা সকলে। কথাটার তাৎপর্য বোঝার সাধ্য ছিল না একেবারেই। বয়স বাড়ার সাথে সাথে যত বেশী সময় এগোতে থাকে, তার সাথে বাড়তে থাকে কাজের পরিমাণ ও দায়িত্বের ভার। সকল কিছু সঠিকভাবে পালন করার তাগিদে শারীরিক সুস্থতা অনেক বেশী প্রয়োজনীয় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

শারীরিক সুস্থতা ও ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমেই একজন মানুষ পরিপূর্ণভাবে তার জীবনের সকল দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন এবং দীর্ঘায়ু লাভ করেন। সকল বয়সের ও লিঙ্গের মানুষের জন্য প্রয়োজন সুস্থ শরীর এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। যে কারণে সুস্থ শরীরে, নীরোগভাবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া।

শারীরিক অসুস্থতা ও দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় অনেক বেশী। সুস্থভাবে জীবনযাপন করার জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থা। যার মাঝে পড়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করা, ইয়োগা অথবা মেডিটেশন করা, অস্বাস্থ্যকর যেকোন অভ্যাস যেমন: ধূমপান করা থেকে বিরত থাকা।   

একটা কথা মনে রাখা জরুরি, ছোট-বড় যেকোন ধরনের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে বিভিন্ন কারণে। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবন ব্যবস্থা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক দৃঢ়ভাবে গড়ে তোলে বলে, রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক ভাবে কম দেখা দেয়।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সাথে বর্তমানে আরো দারুণ একটি ব্যাপার যোগ হতে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ের এক গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, সকালবেলার নাস্তায় কয়েকটি কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে শারীরিক সুস্থতা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘায়ু লাভ করা যায়।

যেহেতু আমরা সকলেই জানি স্বাস্থ্যকর ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাঝে থাকে শর্করা, বিভিন্ন প্রকারের খনিজ পদার্থ, স্নেহ জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন, ভিটামিন সমূহ ইত্যাদি। এই সকল উপাদানের মাঝে কোন এক প্রকারের খাদ্য পরিমাণের তুলনায় কম গ্রহণ করা হলে শরীরে তার অভাব দেখা দেয়।

সারাদিনের মাঝে সবচাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হলো সকালের নাস্তা। যেটা একদম সঠিকভাবে পুষ্টিকর হওয়া প্রয়োজন। কারণ সকালের খাবারই সারাদিনের জন্য শরীরে শক্তি যুগিয়ে থাকে, মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সচল রাখতে সাহায্য করে।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেশীরভাগ মানুষের হৃদযন্ত্রের নানান স্ট্রোকসহ নানান ধরনের রোগ দেখা দেবার অন্যতম ও প্রধান কারণ হলো, রক্তে কোলেষ্টেরোলের মাত্রা অনেক বেশী বেড়ে যাওয়া।

ইউভার্সিটি অফ টরেন্টর একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, সকালে কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক কমে যায়। কাঠবাদামে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমূহ। যা রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলকে বের দিতে সাহায্য করে।

যে কারণে, প্রতিদিন সকালের নাস্তায় ৪-৫ টি কাঠবাদাম খাবার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে কোলেষ্টেরলের সমস্যা দেখা দেওয়া বন্ধ হবে এবং স্ট্রোক হবার সম্ভবনা কমার ফলে হৃদযন্ত্র একদম সুস্থ থাকবে। তাই শারীরিক সুস্থতা পেতে ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে প্রতিদিনের নাস্তায় কাঠবাদাম রাখা আবশ্যিক।

 সূত্রBoldsky

রুমানা বৈশাখী 

জেনে নিন বাদামের গুণাগুণ

আরও পড়ুনঃ   কমলালেবুর উপকারিতা-কমলালেবু কেন খাবেন নিয়মিত?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 1 =