সকালে খালি পেটে ঘি খেলে কী হয়?

0
353
ghee

একটু ভাবুন তো, সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে ফ্রেশ করার পর প্রথমে কী করেন? সবার ক্ষেত্রে উত্তরটা এক রকম হবে না, এটাই স্বাভাবিক। হয়তো কেউ পানি পান করেন, কেউ নাশতা খান, কেউ আবার এক কাপ কফি পানের ভেতর দিয়ে দিনের শুরু করেন।

তবে জানেন কি, সকালে খালি পেটে ঘি খাওয়া বেশ উপকারী? খালি পেটে ঘি খেতে পারলে শরীরে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। ফলে হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। সকালে উঠে এক চামচ ঘি আর এক গ্লাস গরম পানি খেতে পারেন। এটি আরথ্রাইটিস, চুল পড়া প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। তবে এটি খেলে অন্তত আধা ঘণ্টার মধ্যে অন্য কিছু খাবেন না।

সকালে খালি পেটে ঘি খাওয়ার কিছু উপকারের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।

উপকারি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ
ঘিয়ে রয়েছে কে২ এবং সিএলএ নামক দুটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে ক্যান্সার সেলেদের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কাও কমায়।(BH)

কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
নিয়মিত ঘি খাওয়া শুরু করলে কোষেদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে দেহের সচলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে রোগভাগের আশঙ্কাও যায় কমে। শুধু তাই নয়, নতুন কোষেদের জন্ম যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে ঘি। ফলে যে কোনও ধরনের শারীরিক ক্ষত সেরে ওঠে কম সময়ে। (BH)

কোষের কার্যক্রমকে উদ্দীপ্ত করে
সকালে খালি পেটে ঘি খাওয়া কোষের কার্যক্রমকে উদ্দীপ্ত করতে সাহায্য করে। ঘি কোষকে নবজীবন দেয়। এতে কোষ ভালোভাবে কাজ করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়
ঘিয়ের মধ্যে কোষকে পুনর্গঠন করার ক্ষমতা রয়েছে। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। ঘি ত্বককে ময়েশ্চার করে, ত্বকের রোগ সোরিয়াসিস কমাতে কাজ করে।

আরও পড়ুনঃ   ঘরে বসে ঘি তৈরি করবেন যেভাবে

গাঁটে ব্যথা প্রতিরোধ করে
ঘিয়ের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট। এটি গাঁটে ব্যথা ও আরথ্রাইটিসের সমস্যা কমাতে কাজ করে। ঘিয়ের মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এটি অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে কাজ করে এবং হাড়কে ভালো রাখে।

ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়

মস্তিষ্কের সচলতা বজায় রাখতে উপকারি ফ্যাটের প্রয়োজন পরে। ঘি-এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্রয়োজনীয় ফ্যাট, যা মস্তিষ্কের কোষের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। স্মৃতিশক্তির বৃদ্ধিতেও ঘি বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ঘিয়ে উপস্থিত প্রোটিন, নিউরোট্রান্সমিটাররা যাতে ঠিক মতো কাজ করতে পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্মৃতিশক্তির বৃদ্ধি ঘটতে সময় লাগে না। সকালে খালি পেটে ঘি খেলে মস্তিষ্কের কোষ অনেক সক্রিয় থাকে। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, জ্ঞানীয় কার্যক্রম ভালো রাখে। এটি ডেমেনসিয়া ও আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধে কাজ করে।(BH)

ওজন কমাতে সাহায্য করে
আমরা অনেকেই মনে করি, ঘি খেলেই বুঝি বেড়ে যাবে ওজন। তবে ঘি খেলেই যে ওজন বেড়ে যেতে পারে, এ ধারণা ভুল। নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘি, সঠিক পদ্ধতি মেনে নিয়মিত খেতে পারলে ওজন বাড়বে না, বরং কমবে। একাধিক গবেষণায় এটা প্রমানিত হয়েছে যে, ঘিয়ের অন্দরে মজুত মিডিয়াম চেন ফ্যাটি অ্যাসিড, শরীরে জমে থাকা ফ্যাট সেলের গলাতে শুরু করে।  সকালে খালি পেটে ৫ থেকে ১০ মিলিলিটার ঘি খেলে ওজন কমে। এটি বিপাকের হার বাড়াতে সাহায্য করে।

চুল পড়া প্রতিরোধে
খালি পেটে সকালে ঘি খাওয়া চুলের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে; চুল পড়া প্রতিরোধ করে। ঘি চুল নরম, উজ্জ্বল করতে উপকারী। তবে যেকোনো খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খান।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
খালি পেতে ঘি খেলে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলকে একেবারে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চলে আসে। ফলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।(BH)

আরও পড়ুনঃ   জেনে নিন ঘি-এর ৩০ উপকারিতা

সুতরাং খালি পেটে নিয়মিত ঘি খেতে পারলে শরীরে বিশেষ কিছু উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে যা অস্থিসন্ধির সচলতা বাড়িয়ে তোলে এবং একই সঙ্গে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতেও সাহায্য করে। ফলে হাড়ের যে কোনও রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। প্রতিদিন খালি পেটে ঘি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ত্বকের কোলাজেনের উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘি-এ থাকা ‘মিডিয়াম চেন ফ্যাটি অ্যাসিড’ শরীরে জমে থাকা ফ্যাট সেল গলাতে সাহায্য করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন ২ চামচ ঘি খালি পেটে খেতে পারলে শরীরে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ২-৩ চামচ ঘি ভাত বা রুটির সঙ্গে খেতে পারলে বাড়বে হজম ক্ষমতা। একই সঙ্গে পরিপাকতন্ত্রকে চর্বিমুক্ত করার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাকেও নির্মূল করতে সাহায্য করে।

এ ছাড়াও অ্যালার্জি প্রতিরোধে, সর্দি-কাশির কষ্ট কমাতে ঘি অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান।

ঘরে বসে ঘি তৈরি করবেন যেভাবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × 2 =