সুস্থ থাকতে এড়িয়ে চলুন কোমল পানীয়

0
83
কোমল পানীয়

পোলাও থেকে শুরু করে পিৎজা কিংবা বিকালের নাস্তায় ডালপুরির সাথে এক গ্লাস বরফ মেশানো হিমশীতল কোমল পানীয় যেন থাকা লাগবেই। ঝাঁঝ ওঠা শীতল কোমল পানীয় ছাড়া পছন্দের খাবার খেয়ে কোন শান্তি নেই একেবারেই। এভাবেই প্রায় প্রতিদিনই কোমল পানীয় খাওয়া হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে কোমল পানীয়ের সহজলভ্যতা ও চাহিদার জন্যে এর জনপ্রিয়তা ছেলে থেকে বুড়ো সকলের কাছেই আকাশচুম্বী।

কিন্তু প্রতিদিন কোমল পানীয় পানের ফলে কতোটা এবং কী ধরণের ক্ষতি হচ্ছে শরীরের সেটা সম্পর্কে কতোটা জানি আমরা? আমরা ভেবে থাকি, প্রতিদিন ছোট এক বোতল অথবা এক গ্লাস পরিমাণে কোমল পানীয় পান করলে কোন সমস্যা হবে না। সত্যি কথা হচ্ছে, এইভাবেই প্রতিদিন নিজেদের অলক্ষ্যে নিজেরাই নিজেদের অনেক বেশী ক্ষতি করে ফেলছি। প্রতিদিন কোমল পানীয় পান করার ফলে শরীরে নানান ধরণের সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে দেয়। তার মধ্যে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরা হলো।

১/ ভিটামিনের অভাব দেখা দেওয়া

কোমল পানীয়ে ক্যাফেইনের সাথে থাকা ফসফরিক এসিড মূত্রবর্ধনের প্রভাব বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে কোমল পানীয় পান করার ৬০ মিনিট পর শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং ভিটামিন শরীর থেকে বের হয়ে যায়। প্রতিদিন কোমল পানীয় পান করার ফলে ভিটামিনের অভাব অনেক বড় আকারে দেখা দেয়।

২/ দাঁতে ক্ষয় দেখা দেওয়া

কোমল পানীয়ে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিটি এবং চিনি দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে থাকে এবং ক্যাভেটিস তৈরি করে। যার প্রভাব অনেক বেশী দেখা দেয় প্রতিদিন কোমল পানীয় পান করলে।

৩/ মানসিক দুশ্চিন্তা দেখা দেওয়া

ঘুমের সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কোমল পানীয়ে থাকা ক্যাফেইন এর ফলে মানসিক দুশ্চিন্তা দেখা দেওয়া শুরু করে। এক ক্যান কোমল পানীয়ে এক কাপ কড়া কফির সমপরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। যার ফলে অনেক সময় মানসিক দুশ্চিন্তাসহ মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা হওয়া, হতাশা দেখা দেওয়া সহ নানান ধরণের সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে।

৪/ ওজন বেড়ে যাওয়া

বাড়তি ওজন মানেই শারীরিক নানান ধরণের সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করা। ওজন অনেক বেশী বেড়ে গেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক বেশী বেড়ে যায়। এছাড়াও হাড়ের অস্থিসন্ধি দূর্বল হয়ে পরে।  

৫/ ত্বকে সমস্যা দেখা দেওয়া

প্রতিদিন কোমল পানীয় পান করলে ত্বকের উপরে পড়া বিরূপ প্রভাব ধূমপান করার সমান! কারণ কোমল পানীয়ে রয়েছে প্রদাহজনক প্রভাব যা শরীরে রক্তের পরিমাণ অনেক বেশী বাড়িয়ে দেয়। এতে করে ত্বক অনেক বেশী শুষ্ক হয়ে যায়। যার ফলে ত্বকের উপরে খুব কম সময়ের মাঝেই বয়সের ছাপ দেখা দেয়। এর সাথে ত্বকে ব্রণের সমস্যা দেখা দেওয়া সহ নানা ধরণের সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে।

৬/ হৃদযন্ত্রের, রক্তচাপের এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দেওয়া

রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভবনা অনেক বেশী বেড়ে যায়। প্রতিদিন শুধুমাত্র এক ক্যান কোমল পানীয় পান করলে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভবনা অন্য যে কারোর চাইতে অনেক বেশী দেখা দেয়। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল নারীরা প্রতিদিন কোমল পানিত পান করে তাদের মাঝে টাইপ-২ ডায়বেটিস বেশী দেখা দেয়।

৭/ কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়া

সাধারণ কোমল পানীয় তো বটেই, চিনিবিহীন অথবা ডায়েট কোমল পানীয় পান করাও নিরাপদ নয় কোনোভাবেই। ডায়েট কোমল পানীয়ে চিনি না থাকলেও আর্টিফিসিয়াল সুইটনার থাকে। যেটা শরীরের জন্য আরো বেশী ক্ষতিকর। বিশেষ করে কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য।

সূত্রBright Side  

 কে এন দেয়া

কোক, পেপসিসহ পাঁচ পানীয়তে বিষাক্ত পদার্থ

আরও পড়ুনঃ   কোমল পানীয় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, নিশ্চিত করছে গবেষণা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 + eighteen =