স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ১০টি বীজ

0
124
বীজ

সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। কিন্তু অসুস্থতা নিমিষেই মানুষের সকল সুখ কেড়ে নেয়। অপরিসীম চাহিদার দুনিয়ায় কোনো কিছুর অভাব না থাকলেও অসুস্থতা জীবনকে বিষাদে ভরিয়ে দেয়। তাই সুস্থ থাকতে এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে মানুষ কতো কিছুই না করে।

বিভিন্ন গবষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যের সুস্থতা বজায় রাখাতে মোটা শরীরের তুলনায় স্লিম হওয়া অপেক্ষোকৃত উত্তম। যে কারণে বর্তমান সময়ে নিজেকে স্লিম রাখতে নারী-পুরুষের প্রচেষ্টার অন্ত নেই। অথচ নিয়ম মেনে পরিমাণ মতো খাবার খেলে স্লিম হয়ে সুস্থ থাকা খুবই সহজ।

আর মানুষের দেহের পূর্ণ গঠন নিশ্চিত করতে ও স্লিম থাকতে বিভিন্ন বীজ খুবই উপকারী। ডালিমের বীজ, তিল, তিসি, সূর্যমূখী ফুলের বীজ, অঙ্কুরিত গম, কুমড়ার বীজ খেয়ে সহজেই নিজেকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তোলা সম্ভব। এরমধ্যে তিল, তিসি ও সূর্যমূখীর তেল তরকারীতে নিয়মিত খাওয়া যায়। অন্যান্য বীজ সপ্তাহে দুয়েকদিন করে নিয়মিত খেলে সুফল পাওয়া যায়।

অনেকেরই জানা নেই বীজের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে। বীজে থাকে প্রচুর পুষ্টি৷ জেনে নেয়া যাক বীজের উপকারিতা৷

কাঁঠাল বীজ: বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। গ্রীষ্মকালে দেশের সর্বত্রই কাঠাল পাওয়া যায়। অন্যান্য ফলের তুলনায় কাঁঠাল দামেও বেশ সস্তা। তবে কাঁঠালের খাদ্যগুণ অপরিসীম। কাঁঠালে কার্বোহাইড্রেট, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, সুগার, ভিটামিন সি, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, বিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন ই থাকে। ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে পর্যাপ্ত। পুষ্টি গুণের দিক থেকে কাঁঠালের বীজও পিছিয়ে নেই। কাঁঠালের বীজে আয়রনের ভাগ বেশি থাকে, যা রক্তশূন্যতায় কাজ দেয়। এছাড়া কাঁঠালের বীজ যৌনশক্তি বাড়াতেও কাজ করে।

তুলসীর বীজ :

তুলসীর বীজে আছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম। দুই চামচ তুলসী বীজে যে ক্যালরি রয়েছে তা এক স্লাইস পনিরের সমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে দুধের সঙ্গে তুলসী বীজ মিশিয়ে খেলে পুরুষের বীর্য বৃদ্ধি পায়। আর তুলসীর বীজে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকার কারণে তা হাড় ও দাত সুস্থ রাখতে খুবই উপকারী।

আরও পড়ুনঃ   কালোজিরা খাবেন যে কারণে

অঙ্কুরিত গম : যাদের হজমের গণ্ডগোল আছে তারা অঙ্কুরিত গম খেতে পারেন নিয়মিত। অঙ্কুরিত গমে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই ও খাদ্য আঁশ। এতে হজমশক্তি বাড়িয়ে তোলে।

ডালিম/আনারের বীজ:
বহু গুণের অধিকারি ডালিমের বীজে কোনো ক্যালরি নেই, রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি, যা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। ফলে ডালিমের বীজ খাওয়ার ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বি বের হয়ে অপনি হয়ে উঠবেন স্লিম ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। আর হৃদরোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং দীর্ঘ যৌনজীবনে সুখ লাভ করতে ডালিমের বীজের জুড়ি নেই।

ক্যানাবিস গাছের বীজ:
ক্যানাবিস গাছ থেকে গাঁজা তৈরি হয়৷ আবার এই গাছের বীজ স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী৷ এতে প্রচুর আমিষ বা প্রোটিন রয়েছে৷ আর আছে অ্যামিনো এসিড৷ এছাড়া ক্যালরি পোড়াতেও সাহায্য করে এই বীজ৷ এগুলো বেটে শরবতও তৈরি করা হয়, যা ভাঙ হিসেবে পরিচিত৷

কুমড়ার বীজ :

কুমড়া বীজ পেপিটাস নামেও পরিচিত। এ বীজ ভিটামিন বি, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, প্রোটিন এবং ট্রিপটোফেন অ্যামিনো অ্যাসিডের ভালো উৎস। ট্রিপটোফেন অ্যাঙ্কজাইটি বা উদ্বেগ হ্রাসে অবদান রাখে। এ বীজে উচ্চমাত্রার প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকে, যা ব্লাড ভেসেলকে সুস্থ রাখে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে ফেলে। খাবার নিয়ম : কুমড়া বীজ ভেজে তাতে কামড় বসাতে পারেন। গ্র্যানোলা বার এবং ট্রেইল মিক্স রেসিপিতে এ বীজ রাখতে পারেন অথবা এ বীজ দিয়ে সুপের ওপর আবরণ সাজাতে পারেন। এ বীজের তেল সালাদের সসের মান বাড়িয়ে তোলে। তবে রান্না করলে এ বীজের পুষ্টিগুণ কিছুটা কমে যায়। এটি দুর্বল ও ক্ষীণকায় মানুষের বল বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি বলবৃদ্ধিকারক হিসেবেও বেশ পরিচিত৷ এছাড়া কুমড়ার বীজে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন। আর আয়রন দেহে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের অন্যতম উপাদান। গোটা দেহে অক্সিজেন সরবরাহের কাজটি করে হিমোগ্লোবিন। তাই শরীরে আয়রনের অভাব থাকলে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুনঃ   সকালের নাস্তায় কেন খাবেন কাঠবাদাম?

তিল:
আঁশযুক্ত ও প্রটিন সমৃদ্ধ খাবার। হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে তিলের ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করার মতো। তিলে আছে লিনোলেনিক এসিড, যাকে ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডও বলা হয়৷ এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে৷

তিসি বীজ :
বাদামি রঙের এবং বাদামের স্বাদযুক্ত তিসি বীজ দ্রবণশীল ফাইবারের বড় উৎস। দ্রবণশীল ফাইবার কোলেস্টেরল কমায়, দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখে এবং ব্লাড সুগার বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। এ বীজে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডি থাকে, যা চোখ ও মস্তিষ্কের উপকার সাধন করে এবং ট্রাইগ্লিসারাইডস কমাতে সহায়তা করে। যাদের শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হয় তাদের জন্য এটি উপকারী ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি হাড়ের ব্যথায়ও খুব উপকারী। এতে লিগন্যান নামে একপ্রকার ইস্ট্রোজেন থাকে যা নির্দিষ্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে। খাবার নিয়ম: তিসি বীজ শক্ত। তাই প্রথমে ব্লেন্ডার বা কফি ব্লেন্ডারে তিসি বীজ চূর্ণ করুন। অন্যথায় বীজ হজম না হয়ে বাইরে চলে আসতে পারে। এর ফলে প্রয়োজনীয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শোষণ হবে না। চূর্ণিত তিসি বীজ নরম খাবার, তরল খাবার বা পানীয় খাবার, দই, ওটমিল বা জই, খাদ্যশস্য, ক্যাসারোল এবং বেকিং খাবারে যুক্ত করে খেতে পারেন। চূর্ণিত তিসি বীজ বায়ুরোধী পাত্রে ভরে রেফ্রিজারেটরে রাখুন।

সূর্যমুখী ফুলের বীজ : এতে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। এছাড়া ভিটামিন এ, বি, ডি, ই, কে এবং প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন রয়েছে। এ বীজের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ই কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, চুল ও ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করতে পারে। আয়োডিন গলগণ্ড রোগের থেকে বাঁচায়। ভিটামিন এ রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন বি মুখে জিহ্বায় ঘা রোধ করে, ভিটামিন ডি হাড়ের গঠন বজায় রাখে এবং ভিটামিন কে স্কার্ভি নামক রোগ থেকে বাঁচায়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এক সূর্যমুখী ফুলের বীজ শরীর জন্য কতো উপকারে লাগে। এ বীজে থাকা ফোলেট জন্মত্রুটি প্রতিরোধ করে।  এ বীজ প্রোটিন ও হার্ট-হেলদি ফ্যাটে সমৃদ্ধ। খাবার নিয়ম: একমুঠো সূর্যমুখী বীজ চিবাতে পারেন অথবা মিষ্টি রুটি বা বিস্কুট, সালাদ, নরম খাবার এবং ছোট ছোট খন্ডের ভাজা খাবারের সঙ্গে যুক্ত করে খেতে পারেন। লবণাক্ত সংস্করণ পরিহার করুন, কারণ এতে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম থাকে।

আরও পড়ুনঃ   কেন আপনার পুষ্টি উপাদানে অনন্য আমড়া খাওয়া উচিত ?

সোয়াবিন বীজ : সোয়াবিন বীজে প্রচুর পরিমাণ আঁশ রয়েছে। আঁশযুক্ত বীজটির মধ্যে কেলোরি ভরপুর। এটি ফিগার ফিটফাট রাখতে সাহায্য করে। আবার শক্তিও বৃদ্ধি করে।

আপেলেই লুকিয়ে মৃত্যুর ‘বীজ’!


জে এইচ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × 4 =